নিজস্ব প্রতিবেদক | নারায়ণগঞ্জ
নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে দীর্ঘ পথচলা, আন্দোলন-সংগ্রাম, দলীয় সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড এবং জনসম্পৃক্ততার মধ্য দিয়ে আলোচনায় রয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনের সংসদ সদস্য মো. নজরুল ইসলাম আজাদ। বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ, প্রতিকূল সময়ে নেতাকর্মীদের সঙ্গে থাকা, একাধিকবার কারাবরণের অভিজ্ঞতা এবং স্থানীয় মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ তাঁকে আড়াইহাজারের রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি পরিচিত অবস্থানে নিয়ে এসেছে।
রাজপথের রাজনীতি থেকে জাতীয় সংসদ—নজরুল ইসলাম আজাদের রাজনৈতিক পথচলায় রয়েছে নানা অধ্যায়। বর্তমানে তিনি বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ঢাকা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এবং নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দলীয় দায়িত্বের পাশাপাশি এলাকার উন্নয়ন, সামাজিক সম্প্রীতি, কৃষি, শিক্ষা ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডেও তাঁর সম্পৃক্ততা রয়েছে।
দুঃসময়ে রাজপথের রাজনীতি ও রাজনৈতিক ত্যাগ
নজরুল ইসলাম আজাদের রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম আলোচিত দিক বিএনপির আন্দোলন-সংগ্রামে তাঁর অংশগ্রহণ। বিশেষ করে ২০১৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আড়াইহাজারে দলীয় কর্মসূচি, সভা-সমাবেশ ও আন্দোলনে তাঁর সক্রিয়তা বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে।
২০২৩ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি আড়াইহাজারের পাঁচরুখী এলাকায় বিএনপির পদযাত্রা কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পরদিন নজরুল ইসলাম আজাদসহ ১২০ জন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার খবর প্রকাশ করে এনটিভি।
একই বছরের মে মাসে আড়াইহাজার থানার একটি মামলায় আদালত তাঁর জামিন নামঞ্জুর করলে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। এ ঘটনাও জাতীয় গণমাধ্যমে গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশিত হয়।
২০২৪ সালের ২০ আগস্ট যুগান্তরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে তিনি নিজের রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে একাধিকবার কারাবরণের কথা বলেন। একই সঙ্গে দলের দুঃসময়ে যারা রাজপথে ছিলেন, মামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তাঁদের যথাযথ মূল্যায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তাঁর রাজনৈতিক বক্তব্যে বারবার উঠে এসেছে ত্যাগী নেতাকর্মীদের সম্মান, সাংগঠনিক ঐক্য এবং দলের কঠিন সময়ে পাশে থাকা মানুষের অবদানের কথা।
দলীয় সংগঠন শক্তিশালী করতে ভূমিকা
বিএনপির সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি আড়াইহাজারের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ, মতবিনিময় ও দলীয় কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম অংশ।
২০২৫ সালের ৮ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে তাঁর নেতৃত্বে আড়াইহাজারে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এ কর্মসূচি নিয়ে এনটিভির প্রকাশিত ভিডিওতেও তাঁর সাংগঠনিক নেতৃত্বের চিত্র উঠে আসে।
একই বছরের ১৫ নভেম্বর এনটিভির আরেকটি ভিডিওতে ‘কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সুন্দর আড়াইহাজার গড়তে চাই’ বক্তব্যের মাধ্যমে এলাকার উন্নয়নে স্থানীয় জনগণ ও প্রবাসীদের সম্মিলিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন তিনি।
দলীয় রাজনীতিতে তাঁর বক্তব্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা রাখা ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন এবং সংগঠনের ঐক্য ধরে রাখা।
সামাজিক সম্প্রীতি ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সহযোগিতা
রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়েও তাঁর অংশগ্রহণ দেখা যায়।
২০২৬ সালের দুর্গাপূজা উপলক্ষে আড়াইহাজার উপজেলার ৩৭টি মন্দিরে সরকারি ও ব্যক্তিগত তহবিল থেকে অনুদান দেওয়ার কর্মসূচিতে তিনি অংশ নেন। এ ছাড়া বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এলাকার মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বজায় রাখার ক্ষেত্রে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ।
কৃষকদের সহায়তা ও কৃষি উন্নয়নে উদ্যোগ
কৃষকদের জীবনমান উন্নয়ন ও কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির বিষয়েও তাঁর সম্পৃক্ততা রয়েছে। ২০২৬ সালের জুনে আড়াইহাজারে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মধ্যে কৃষি প্রণোদনা বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি।
এ কর্মসূচির আওতায় কৃষকদের বিনামূল্যে আমন ধানের বীজ, রাসায়নিক সার, সবজি বীজ এবং বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
কৃষি বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খাত। তাই প্রান্তিক কৃষকদের সহায়তা, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কৃষিতে সরকারি সুযোগ-সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টি তাঁর স্থানীয় কর্মকাণ্ডের উল্লেখযোগ্য অংশ।
শিক্ষা ও তরুণ প্রজন্মকে গুরুত্ব
একটি উন্নত সমাজ গঠনে শিক্ষার বিকল্প নেই—এমন অবস্থান বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তুলে ধরেছেন নজরুল ইসলাম আজাদ।
আড়াইহাজারের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন, নতুন অবকাঠামো নির্মাণ এবং শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করার বিভিন্ন কর্মসূচিতে তাঁকে অংশ নিতে দেখা গেছে।
পঞ্চম আড়াইহাজার উপজেলা কাব ক্যাম্পুরী-২০২৬ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শিশু-কিশোরদের শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব, দেশপ্রেম ও মানবিক মূল্যবোধের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
শিক্ষার্থীদের ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি তাদের ভালো কাজের পাশে থাকার আশ্বাসও দিয়েছেন।
সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদকমুক্ত আড়াইহাজারের প্রত্যাশা
নির্বাচনী প্রচারণা ও বিভিন্ন জনসভায় আড়াইহাজারকে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও মাদকমুক্ত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন নজরুল ইসলাম আজাদ।
শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগব্যবস্থা, কর্মসংস্থান ও নাগরিক সুবিধার উন্নয়নের মাধ্যমে আড়াইহাজারকে একটি পরিকল্পিত ও আধুনিক জনপদ হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যাশাও তুলে ধরেন তিনি।
২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে তাঁর রাজনৈতিক জীবনে নতুন অধ্যায় শুরু হয়। নির্বাচনের মধ্য দিয়ে এলাকার মানুষের উন্নয়ন ও প্রত্যাশা পূরণের দায়িত্বও তাঁর ওপর বর্তেছে।
ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও মানুষের পাশে থাকার প্রত্যাশা
একজন জনপ্রতিনিধির প্রকৃত দায়িত্ব শুধু রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সাধারণ মানুষের বিপদে পাশে থাকা, অসহায় পরিবারের সহায়তা, শিক্ষার্থীদের উৎসাহ দেওয়া, কৃষকদের সমস্যা সমাধান এবং সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখাও জনপ্রতিনিধির দায়িত্বের অংশ।
নজরুল ইসলাম আজাদের প্রকাশিত কর্মকাণ্ডে এসব বিষয়ের কয়েকটি দিক দেখা যায়। বিশেষ করে কৃষি প্রণোদনা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে অনুদান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নসংক্রান্ত কর্মসূচি এবং স্থানীয় মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় তাঁর জনসম্পৃক্ততার পরিচয় বহন করে।
তাঁর রাজনৈতিক জীবনের ত্যাগ ও অভিজ্ঞতার পাশাপাশি ব্যক্তিগত উদ্যোগে পরিচালিত মানবিক কর্মকাণ্ড আরও বিস্তৃতভাবে সামনে আসুক—এমন প্রত্যাশা স্থানীয় মানুষের।
রাজপথ থেকে সংসদ, সামনে মানুষের প্রত্যাশা
দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা, আন্দোলন-সংগ্রামের অভিজ্ঞতা এবং সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনের পর এখন সংসদ সদস্য হিসেবে নজরুল ইসলাম আজাদের সামনে সবচেয়ে বড় দায়িত্ব আড়াইহাজারের মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করা।
এলাকার রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মান বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কৃষকদের স্বার্থ সংরক্ষণ, মাদক ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মতো বিষয়গুলো তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ।
রাজনীতিতে ত্যাগের মূল্যায়ন যেমন প্রয়োজন, তেমনি জনপ্রতিনিধি হিসেবে কাজের দৃশ্যমান ফলাফলও গুরুত্বপূর্ণ। দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা—রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা ও অর্জনকে কাজে লাগিয়ে নজরুল ইসলাম আজাদ আড়াইহাজারের উন্নয়ন এবং মানুষের কল্যাণে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন।
নারায়ণগঞ্জে তাঁর রাজনৈতিক পথচলা নিয়ে আলোচনা যতই থাকুক, শেষ পর্যন্ত তাঁর কর্মকাণ্ডের সবচেয়ে বড় মূল্যায়ন হবে মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন, জনস্বার্থ রক্ষা এবং প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই।