কুমিল্লার চাঞ্চল্যকর ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যার ৩১ দিন পর মামলায় চারজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দিয়েছে পুলিশ। গতকাল কুমিল্লা জেলা পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন। এদিকে পরিবারের দাবি, আদালতে দ্রুত সময়ের মধ্যে খুনিদের সর্বোচ্চ সাজা কার্যকরের। বয়সের দোহাই দিয়ে যেন কোনো আসামি বেরিয়ে যেতে না পারে।
পুলিশ জানায়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যায় জড়িত দুই কিশোরসহ চার আসামির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। তদন্তে তাদের বিরুদ্ধে হত্যায় জড়িত থাকার সত্যতা পাওয়া গেছে। মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার জন্যই অপ্রতিমকে হত্যা করা হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২, ২০১ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। শিশু আইন অনুযায়ী, অভিযোগপত্রে ওই দুই কিশোরকে শিশু হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তারা বর্তমানে গাজীপুর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকালে আইফোন নিয়ে ছবি তুলতে বের হওয়ার পর কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকা থেকে নিখোঁজ হয় অপ্রতিম। ওই দিন সে আর বাড়ি ফেরেনি। পরে তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরদিন ১৯ সেপ্টেম্বর দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার একটি জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনা দেশজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। আসামিদের বিরুদ্ধে কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠে। এরপর কুমিল্লা ১৮ থানায় একযোগে কিশোর গ্যাংবিরোধী সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করে জেলা ও গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। অপ্রতিম কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার মোবাইল ফোন ব্যবসায়ী। তিনি বলেন, ‘বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে তদন্তকারী কর্মকর্তা ফোন করে জানান, আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ছেলেকে ঘিরেই বাঁচার স্বপ্ন ছিল আমাদের। সেই স্বপ্ন খুনিরা মুছে দিয়েছে। খুনিদের দ্রুত বিচার চাই। আদালতে দ্রুত সময়ের মধ্যে খুনিদের সর্বোচ্চ সাজা হবে সেই আশা করছি। বয়সের দোহাই দিয়ে যেন কোনো আসামিরা বেরিয়ে যেতে না পারে। কারণ তারা বেরিয়ে এসে আবার অপরাধে জড়িয়ে পড়বে।’
তার অভিযোগ, দুই আসামির বয়স কম দেখানো হয়েছে। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে তাদের বয়স পুনর্নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন তিনি।


