রাঙামাটির সাজেকে সড়ক অবরোধের কারণে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। অবরোধ ও সংঘর্ষের প্রভাবে পর্যটনকেন্দ্রটির বিভিন্ন রিসোর্ট ও কটেজে আগাম কক্ষ বুকিং বাতিল হতে শুরু করেছে।
রাঙামাটির সাজেক-বাঘাইহাট সড়কে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশনের ডাকা অবরোধ কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। এতে সড়কটিতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়েছে। তবে পুলিশ জানিয়েছে, সাজেকের সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে সাজেক-বাঘাইহাট সড়কের বিভিন্ন স্থানে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষিপ্তভাবে অবরোধ পালন করেন আন্দোলনকারীরা। অবরোধের কারণে পর্যটক ও সাধারণ মানুষের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।
সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির সদস্যসচিব বিজয় কান্তি চাকমা জানিয়েছেন, তাঁদের অবরোধ কর্মসূচি চলমান রয়েছে। তাঁর দাবি, বৃহস্পতিবারের ঘটনায় প্রায় ১০০ জন সাধারণ মানুষ আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে আটজনের অবস্থা গুরুতর।
বিজয় কান্তি চাকমার অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বাধার কারণে আহত ব্যক্তিদের অন্যত্র নিয়ে চিকিৎসা করানো সম্ভব হচ্ছে না। তবে নিজেদের উদ্যোগে আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করার চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে, সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফাজ্জল হোসেন বলেন, অবরোধের কারণে সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সেনাবাহিনী ও পুলিশের অভিযান চলছে বলেও জানান তিনি।বৃহস্পতিবারের ঘটনায় মামলা হয়েছে কি না, জানতে চাইলে ওসি বলেন, মামলা করার বিষয়ে প্রক্রিয়া চলছে।
পর্যটন খাতে প্রভাব, বাতিল হচ্ছে বুকিং
অবরোধ ও সংঘর্ষের প্রভাবে সাজেকের পর্যটন ব্যবসায়ও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। বিভিন্ন রিসোর্ট ও কটেজে আগাম বুকিং দেওয়া পর্যটকদের কেউ কেউ তাঁদের কক্ষের বুকিং বাতিল করছেন।
দুর্গাপূজা উপলক্ষে গত ১৬ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত সড়ক অবরোধ কর্মসূচি স্থগিত রাখা হয়েছিল। এ সময় সাজেক ভ্যালিতে পর্যটকদের ভ্রমণের ওপর প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞাও প্রত্যাহার করা হয়।
এরপর ১৬ অক্টোবর থেকে পর্যটকেরা সাজেকে যাওয়া শুরু করেন। তাঁদের অনেকে আগাম রিসোর্ট ও কটেজের কক্ষ বুকিং দিয়েছিলেন।
তবে নতুন করে অবরোধ ও সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় সাজেকের পর্যটন কার্যক্রমে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
সূত্র: দ্য ডেইলি স্টার বাংলার

