

গার্মেন্টস শ্রমিকদের চলমান আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে শ্রমিকদের কারো ইন্ধনে পড়ে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম আজাদ। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
সম্প্রতি দেওয়া এক বক্তব্যে নজরুল ইসলাম আজাদ বলেন, “শ্রমিক ভাইয়েরা কারো ইন্ধনে পড়বেন না, প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আস্থা রাখুন।”
তার এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে রাজধানীর মিরপুর, গাজীপুরের কালিয়াকৈর এবং সাভার-আশুলিয়াসহ দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন চলছে।
গত রোববার (১ নভেম্বর) সকাল থেকে এসব শিল্পাঞ্চলে বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা কর্মবিরতি, বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ করেন। শ্রমিকদের প্রধান দাবি, বর্তমান ন্যূনতম মাসিক মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা। পাশাপাশি শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ, কালো তালিকাভুক্তি বন্ধ এবং শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার দাবিও জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
মিরপুরের ১০, ১১ ও ১২ নম্বর এলাকায় শ্রমিকদের সড়ক অবরোধের কারণে যান চলাচল বন্ধ হয়ে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। অন্যদিকে গাজীপুরের কালিয়াকৈর এবং আশুলিয়ার বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিকদের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এতে শ্রমিক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। আন্দোলনের কারণে বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে শত শত পোশাক কারখানার উৎপাদন কার্যক্রমও ব্যাহত হয়।
এদিকে শ্রমিক অসন্তোষ নিরসনে সরকার নতুন ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। শ্রমিকদের বেতন কাঠামো পুনর্নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর প্রতিনিধিদের নিয়ে ছয় সদস্যের এই বোর্ড গঠন করা হয়েছে। সরকার শ্রমিকদের কর্মস্থলে ফিরে গিয়ে আলোচনার মাধ্যমে দাবি আদায়ের আহ্বান জানিয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে নজরুল ইসলাম আজাদের বক্তব্যে শ্রমিকদের ধৈর্য ধারণ, কোনো পক্ষের ইন্ধনে বিভ্রান্ত না হওয়া এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আস্থা রাখার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
দেশের তৈরি পোশাকশিল্প বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। এ খাতের স্থিতিশীলতা, শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার এবং উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখার বিষয়টি বর্তমানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি ও শিল্পের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সংকটের সমাধান এখন সময়ের দাবি।
মন্তব্য করুন